Friday, October 22, 2010

গরমিল

বাকি রেখেছিলাম যাতে ফিরে আসতে পারি...
ফিরে এসে দেখি দেরী হয়ে গেছে,
তাই এখন শুধুই ফিরে যাওয়া বাকি |

কতটুকু শ্যাওলা জমলে পিছলে পড়ে ?
অঙ্কতে আমি চিরকালই কাঁচা |
আমার ক্ষেত্রফলের বাইরের পথ হিসেবে রাখিনি,
তোমার ভেতরের তুমিকে দেখিনি |

Thursday, October 21, 2010

শুরুর কথা

কোন আদিম আঁধারে আধাবাঁদর মানুষ গুহা খুঁজে নিয়েছিল
 কেন ?
কিছুর ভয় ,না দিনের শেষে সেখানে নোঙর ফেলবে বলে !
আরেকজনকে রেখে গুহার আঁধারে , সে খুঁজে নেবে দিনের আহার
তারপর কতগুলো নতুন মুখ তার পথ চেয়ে থাকে গুহার কোটর থেকে
আবার উষ্ণ পরশ , আক্রান্ত চেতনা...
গাছের ফাঁকে ফাঁকে নোনতা রোদ লেগে থাকে 
তার তাপে কিছুটা ভিজিয়ে নেয় শরীর
সারাদিনে মাঝে মাঝে কুশুম বৃন্তের কথা মনে পড়ে তার 
নিজেই লজ্জা পায়, হেসে ওঠে 
বিষ্ময় জাগে কি করে কেটেছিল আগের দিন গুলো একা একা
পালাবে নাকি আবার আগের জীবনে ,গুহার গন্ধ মুছে ফেলে
কিন্তু ওই যে লালের আভা...ওই যে একভাবে তাকানোর আনন্দ
এগুলো শেকল হয়ে গেছে ।
কিছুদিন কেটে গেল একসাথে একগুহার নীচে 
শেকল শেকড় হয়ে গেছে , গায়ে গুহার গন্ধ লেগে গেছে
লাল আভা ,কুশুম বৃন্ত... ছেড়ে দিয়েছে তাদের বাঁধন 
তার জায়গায় অন্য কোন ঘ্রাণ , এতে আর খিদে নেই
কিন্তু বেঁচে থাকার অভ্যেস আছে...কেমন অদ্ভুত অভ্যেস 
যেন একসাথে ছাড়া বাঁচা যায়না , একসাথে না থাকলে সূর্যোদয় হবে না
মনে মনে ভাবে , ভাগ্যিস একদিন একসাথে তারা গুহা খুঁজেছিল ।

Tuesday, October 19, 2010

সইল না

বহু আশা করে সঙ্গে এনেছিলাম সমুদ্রঘুড়ি
কিন্তু এখানকার আকাশে উড়ল না
ওর অন্য আকাশ চাই ,
বিশ্রামের জন্য সমুদ্রতট চাই ,
চিকচিকে বালি না হলে বাঁচা যায়না বললো |
তাই হবে হয়ত ,
আবার রেখে এলাম তাকে , চিকচিকে বালির দেশে
যেমন সে চেয়েছিল |

Friday, October 15, 2010

ট্রেন থেকে দেখা যায় খুদে খুদে জানালা
 সংসার টুকরো টুকরো,
সন্ধ্যে বেলার  একটা সময়
 বার বার আসে
যখন আমি বাবু হয়ে বসে মহেঞ্জদরো সভ্যতার কথা পড়তাম,
 এখন কি বসে আছে ওই জানালার কাছে
ছোট দুটো পা বাবু হয়ে
 পড়ছে কোন নদীর গতিপথ
হিমবাহর গা দিয়ে ছুটে যাচ্ছে তার মন
 আসলে কিছুই হারায়নি
আমি বার বার ফিরে ফিরে দেখেছি
 কিছুই হারায়না
আমার ছোটবেলা বড় হয় অন্য কোথাও
  মানুষের বিবর্তন পড়ে
সভ্যতার ইতিহাস পড়ে
 পড়ে শহর গড়ে ওঠার কাহিনী
বাবু হয়ে বসে পড়ে ছোট দুটো পা
 রোজ সন্ধ্যে বেলা
জানালার পাশে , জেনে ফেলে পৃথিবীর গল্প |

আমার দিনগুলি


পাশের বাড়ির ছাতে একটা খোঁড়া কাকের ছানা ছিল,
আমি রোজ ঘুম থেকে উঠে দেখতাম
আজ আর দেখতে পেলাম না
তার মানে উড়তে শিখে গেছে |

আজ সকালে ভিখারী কারুর বাড়ির দরজায় যায়নি
সোজা রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে গেল ,
ও বোধ হয় সব বুঝতে পেরে গেছে |

নর্দমা দিয়ে সরীসৃপ যায়,
আমার ছাপোষা রাস্তা
মুহুর্তে ডিস্কভারি, আমাজন
তার পর,
খানিক adventure, খানিকটা বিজ্ঞাপন |

কলকাতায় ড্রাগন নেই |
তাই গ্যাস জ্বেলে রান্না হয় ,
অটো চলে
ড্রাগন থাকলে ফুঁ দিলেই সব হয়ে যেত |

টিকটিকির মনস্তত্ব বড় জটিল
দেওয়ালের গোটা কর্মক্ষেত্র
নিপূন পায়ে সামলানো ,
এলাকা নির্ধারন
আমার ঘরের টিকটিকি গুলো,
ভীষন skilled , career সচেতন |

ভিড় দেখলে সমুদ্রের কথা মনে পড়ে
প্রচুর জলকণার ভিড় ,
যদিও এখানকার মানুষের ভিড়ে কোন ঢেউ নেই |

মনখারাপ

কিছুক্ষন বসে থাকার পর,
আরো কিছুক্ষন বসে থাকতে পারি...
আরো কিছুটা সময় এমনি এমনি
কিছু হতে দিতে পারি মনের ভেতর
কাঁটা বয়ে আসতে পারে মন থেকে গায়ে
থুতনি হাঁটুর কাছে রেখে,
বুকের বাঁদিকে একটু কান্না চেপে,
আরো কিছুক্ষন |
না,
বিকেলের নাম আমি তোমার নামে আর দিচ্ছি না
তুমি আর পাবে না মনের ঠিকানা |

ভুলতে থাকা

শেষ যেবার দেখা হল তোমার সাথে,
তখন হাত বাড়ানো ইংরেজী আমি ভুলে গেছি,
মনে করতে করতে বাসটা ছেড়ে দিল;
তারপর কত শব্দের মানেই ভুলে গেছি ধীরে ধীরে,
এখন শুধু কতগুলো দৃশ্য মনে আছে|
কিন্তু তা দিয়ে তো আর আলাপ হয়না,
শুধুই কবিতা হয়..

সন্ধান

যাদু জামা খুঁজে চলি আমি মোমবাতি হাতে,
এখানে সেখানে,
জামাটার কথা সবাই জানে না
নকশা আছে হয়ত পিঠের দিকে
কিংবা নেই |
তবু জামাটা ভীষন দরকার
জামাটায় কোন পকেট নেই ,তাই কিছু লুকোনো যায়না
দুঃখগুলো সেই জামা ভেদ করতে পারে না...
অন্ধকার সরে সরে যায়,
দুঃস্বপ্নেরা ঘুমিয়ে থাকে |
আমি জামার নীচে ঢেকে দেব তোমাদের
তখন আর কান্না পাবে না দেখো,
এখন চলি,
আমায় যে জাদু জামা খুঁজতে হবে
মোমবাতি হাতে..